ব্রণর ঘরোয়া চিকিৎসা – Home Remedies for Pimples

0

বয়ঃসন্ধিকাল , আমাদের কৈশোর থেকে যৌবনে যাওয়ার  সময় । এই সময় থেকেই আমদের শারীরীক এবং মানসিক নানান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ব্রণ শব্দটার সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত।১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনের এই রোগটা দেখা যায়। কখনো কখনো  কুড়ি কিংবা তিরিশ বছর বয়সেও এই রোগ দেখা যায়। এর স্থায়ীত্ব দীর্ঘকালীনও হতে পারে । ব্রণ নিয়ে সকলেই চিন্তিত কারণ, আমাদের মুখমন্ডলের সৌন্দর্য আমাদেরকে আকর্ষণীয় করে তোলে।বয়ঃসন্ধিকালে এই ত্বকের পরিচর্যার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু সবার আগে জানা দরকার যে ব্রণ আসলে ঠিক কি? আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

ব্রণর ঘরোয়া চিকিৎসা – Home Remedies for Pimples


ব্রণের আসল কারণ সম্পর্কে ডাক্তার থেকে বৈজ্ঞানিক সবাই বিষয়টিকে বয়ঃসন্ধিকালের ব্যারাম  বলতে নারাজ। তাঁদের মতে হজমের গণ্ডগোল, সূরাপান, অনিয়মিত খাওয়া দাওয়া যেমন দায়ী তেমনই বংশগত কারণও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। প্রোপাইনি ব্যাকটেরিয়াম একনিস নামের একধরণের জীবাণু লোমের গোড়াতেই থাকে। এন্ড্রোজেন হরমোনের প্রভাবে সেবাম নিঃসৃত হয় , ফলে  মুখে, নাকের কাছে তেলতেলে ভাব বেড়ে যায়। উক্ত জীবাণু সেবাম থেকে ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরী করে। সেই অ্যাসিড জমে লোমের গোড়ায় কেরাটিন জমা হয় এবং প্রদাহের সৃষ্টি হয়।

ব্রণের প্রকারভেদ:

1. ট্রপিক্যাল একনি: অতিরিক্ত  আর্দ্রতায় বা বেশি ঘাম হলে পিঠে এবং হাঁটুতে ব্রণ দেখা যায়।
2. প্রিমেন্সট্রুয়াল একনি: মহিলাদের মাসিকের সপ্তাহ খানেক আগে  পাঁচ থেকে দশটি ব্রণ দেখা যায়।
3.  একনি কসমেটিকা : অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহার করলে মুখে ব্রণ দেখা যায়। বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে নানান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যার ফলে মুখে ব্রণ দেখা যেতে পারে।
4. একনি ডিটারজিনেকস : দৈনিক ১থেকে ২ বারের বেশি সাবান দিয়ে মুখ ধুলে মুখে রুক্ষতা বাড়তে দেখা যায়, যার ফলে মুখে ব্রণ দেখা যায়।
5. স্টেরয়েড একনি :  স্টেরয়েড ঔষধ ব্যবহারের ফলে ব্রণ দেখা যায়। একই ঔষধ অনেকদিন ধরে ব্যবহারের ফলে ব্রণ দেখা যায়।

প্রতিরোধের উপায় :


রূপচর্চা আমাদের কাছে সাধারণ নয়। এর দ্বারা আমরা মানুষের কাছে নিজেদেরকে মেলে ধরতে পারি খুব সহজেই। কিন্তু সেই চেহারাতে যখন আসে ব্রণের ভ্রূকূটি তখন মুখমণ্ডলের স্বাভাবিকতাকে বজায় রাখাই হয়ে ওঠে প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর সেই ব্রণ দমনে আমরা ঝাঁপ দিয়ে ফেলি বিভিন্ন পত্র পত্রিকার পাতায়। কিন্তু এই কয়েকটি সহজ উপায় অবলম্বন করলেই আমরা ব্রণের হাত থেকে বাঁচতে পারি।
1. দিনে দুই থেকে তিনবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ব্রণের চোখরাঙ্গানী থেকে থাকতে পারি শত হাত দূরে।

2. হজমের গণ্ডগোলের জন্য ব্রণ হতে পার। কিন্তু বেশি করে জল পান করলে আমাদের হজম ঠিকঠাক থাকে ব্রণের সম্ভাবনা অনেকটা কমে।
3.  চুলে খুশকি থাকলে সেই  থেকেও ব্রণের দেখা মিলতে পারে।
4. পরিষ্কার পরিছন্ন থাকা ব্রণ কমানোর অন্যতম উপায়।
5. ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত খাবার খেলে ব্রণের উপশম হতে পারে।  ব্রণের জন্য অপুষ্টি খুব রকম ভাবে দায়ী।
6. আমাদের হুড়োহুড়ির জীবনে মানসিক চাপ সব্বারই আকাশছোঁয়া। দুশ্চিন্তা যার বাহারী নাম টেনশন সেই টেনশন থেকেও ব্রণ হতে পারে।
7. অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খেলে ব্রণ দেখা যেতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:

প্রতিরোধক নিলেও আমাদের যৌবন নিয়ম না মানার অভ্যাসের দাস। এই ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস যুগে ফাস্ট ফুড আমরা সকলেই খাই। সবসময় নিয়ম মেনে তো চলা যায় না। যার কারণে হাজার নিয়ম মানা সত্ত্বেও , ত্বকের যত্ন নিলেও ব্রণকে রোখা যায় না।
ব্রণ হলে কি করবেন? আপনার জন্য রইল কয়েকটা দাওয়াই

1. দিনে দুই থেকে তিনবার ফেসওয়াশ  দিয়ে মুখ ধুলে ব্রণের সংক্রমণ থেকে নিজের মুখমণ্ডলকে বাঁচানো সম্ভব।
2.  বেশির ভাগ সময় ব্রণতে হাত দিলে তাকে খুটলে, তা বেড়ে যায় । যা আমাদের মুখে এক গর্তের সৃষ্টি করে।তবে যদি ফুসকুড়ির গোড়া থেকে তুলে আনা হয়, তবে এর দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। রাতের বেলা গরম সেঁক দিয়ে , মাস্ক ব্যবহার করলে ব্রণ কমে। ৩।প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পি অ্যাকনি ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধক রূপে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বেনজয়েল পার অক্সাইড  সল্যুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় তবে এটিকেও মৃদু হতে হবে। একদিন অন্তর এই লোশ্ন মেখে রাতে ঘূমোতে গেলে ব্রণের দ্রূত উপশম সম্ভব।
4.  সপ্তাহে একদিন স্টিম ক্লিনজিং  করলে ব্রণের প্রভাব কমে। বাষ্প দিয়ে মুখ পরিষ্কার করবার পর তাকে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড দিয়ে পরিষ্কার করলে ব্রণের প্রতিকার সম্ভব।
5.  রোদে চলাফেরা করবার সময় ব্রণ কিছুটা দমে যায়। কিন্তু অতি প্রখর রোদে ঘুরলে ব্রণ বেড়ে যায়।
6.  কম তৈলাক্ত ক্রিম বা প্রসাধণী ব্যবহার করলে ব্রণের দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব।    
7. প্রতিদিন সকালে নন ইরিটেটিং ক্লিঞ্জিং লোশন ব্যবহার করে ত্বককে তেল মুক্ত করা যায়। তারপর তাতে পরিষ্কার হাতে ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে , অ্যাসট্রিনজেট ব্যবহার করে মুখের মরা কোষ গুলি বেড়িয়ে যায় যার ফলে ব্রণের পরিমাণ কমে।
8. মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা , অনিদ্রা থেকে ব্রণ পরিমাণ বাড়ে তাই আমাদের মন ভালো থাকলে মুখমণ্ডলও থাকবে সুন্দর।

ডাক্তারী পরামর্শ : ব্রণ ভবিষ্যতে স্থায়ী দাগ রেখে যেতে পারে তাই ব্রণ খুব বেড়ে গেলে টেট্রাসাইক্লিন বা এরিথ্রোমাইসিন এই দুটি ঔষধ খাওয়া যেতে পারে। ডাক্তারী পরামর্শ এক্ষেত্রে খুবই জরুরি।

সুস্থ থাকুন, ত্বকের যত্ন নিন , মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। সুস্থ খাওয়া দাওয়া করুন। ব্রণকে আপনি হারিয়ে দেবেন খুব সহজে। মন ভালো রাখুন, নিজেকে ভালো রাখুন, নিজেকে ভালোবাসুন   সেটাই জীবনের আসল মন্ত্র।

 লেখক – রাহুল পাঠক 

Leave A Reply

Your email address will not be published.