অ্যাডলফ হিটলার রচনা ও অনুচ্ছেদ – Adolf Hitler Essay & Paragraph

ভূমিকা:  

বিশ্ব রাজনীতিতে এমন অনেক শাসক এসেছেন যাদেরকে আমরা আজীবন মনে রেখেছি। তাঁদের বিভিন্ন কাজের জন্য। তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষকে আজীবনকাল মনে রাখতে হয় তাঁদের মধ্যে সুশাসক যেমন আছেন তেমনই আছেন কিছু মানুষ যাদের ক্ষেত্রে “শাসক” শব্দটি যথার্থতা লাভ করে। অ্যাডলফ হিটলার তেমনি একজন মানুষ।পৃথিবীতে ফ্যাসিবাদ একনায়কতন্ত্র এই কথাগুলো যতবার আলোচিত হয় তখনই হিটলারের  কথা চলে আসে। একজন একনায়ক শাসক বলে যতই তাঁর কুখ্যাতি থাকুক না কেন। চেস্টা এবং কঠোর পরিশ্রমের এক উদাহরণও তিনি।হিটলারের চরিত্রের এই বিভিন্নতার কারণেই তিনি আজও আলোচিত।

জন্ম ও শৈশব:

২০ শে এপ্রিল ১৮৮৯ অস্ট্রিয়ার লিনৎস শহরে অ্যাডলফ হিটলার জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আলোইস এবং মাতা শিকেগ্রুবার। তাঁর বাল্যকাল অতিবাহিত হয় সেই শহরেই । ছেলেবেলা থেকেই ভীষণ অর্থাভাবে তাঁর দিন কাটে। ১৯০৩ সালে পিতা এবং ১৯০৭ সালে মাতার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন, অর্থাভাব চরমে পৌছোয়। ছোট থেকেই চিত্রশিল্পের প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। তাই এই সময়ে তিনি পোস্টকার্ড এঁকে, ছবি এঁকে দিনযাপন করতে থাকেন। সেইসময় তিনি বাস করতেন ভিয়েনায়। ভিয়েনার বহু হস্টেলে চরম কষ্টে দিন কাটতে থাকে। শিল্পী হিসেবেই তাঁর মধ্যে সম্ভাবনার প্রকাশ সেই ছেলেবেলাতেই ,তাই সেই বিষয়ে লেখাপড়ার জন্য তিনি অস্ট্রিয়ার অ্যাকাডেমী অফ ফাইন আর্টসে ভর্তির পরীক্ষা দিলেও তাতে  সফলতা লাভ করেননি। ১৯১৩ সালে চলে আসেন মিউনিখ শহরে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও হিটলার :

১৯১৪ সালে অস্ট্রিয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে যান। সেখানে তাঁকে শারীরিকভাবে অক্ষম বলে  সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়নি। তিনি ফিরে এলেন জার্মানিতে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগদান করলেন জার্মান সেনাবাহিনীতে। যুদ্ধে বীরত্বের জন্য প্রথমে ১৯১৪ সালে পেলেন সেকেন্ড ক্লাস আইরন ক্রস, এবং ১৯১৮ সালে পেলেন ফার্স্ট ক্লাস আইরন ক্রস। ইতমধ্যে জার্মানি বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ১৯১৬ সালে যুদ্ধক্ষেত্রে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জার্মানির এই হারে হিটলার হতাশ হননি বরং তাঁর মধ্যে জেদ বাড়ে ,ঘুরে দাঁড়ানোর।

রাজনৈতিক জীবন :

যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর জার্মানিতে করের বোঝা বাড়ে। এছাড়া বিপুল ক্ষয়-ক্ষতির সামাল দিতে নাজেহাল অবস্থার সম্মুখীন হন জার্মানির মানুষ। এই অবস্থায়  জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির জাগরণ হয়। এইরকম টালমাটাল সময়ে এইরকম দলের জাগরণ খুবই সুবিধাজনক হয়। ১৯১৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে দলে যোগদান করেন। ১৯২০ সালে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় পার্টির কথা প্রচারের জন্য।  রাজনীতিতে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে তিনি ১৯২০ সালে সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন। ১৯২৩ সালে অভ্যুত্থান করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে ,জেলবন্দি হন। সেই সময় জেলের মধ্যে তিনি তাঁর আত্মজীবনী “মেইন ক্যাম্ফ” রচনা করেন। জেল থেকে ছাড়া পেলে তাঁর জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো ছিল। তাঁর জাতীয়তাবাদী,  ইহুদি বিদ্বেষী, সমাজতন্ত্র বিরোধী বক্তৃতা মানুষকে টানতে থাকে। নাৎসি দলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই দেশব্যাপী এক বিরাট আকার লাভ করে ।১৯৩৩ সালে নাৎসি দল নির্বাচনে জয়লাভ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।পরবর্তীকালে ১৯৩৪সালে প্রেসিডেন্ট হিসাবে হিটলার নির্বাচিত হন। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন ছিলেন।  তিনি নিজেকে “ফুয়ের” নামে ঘোষণা করেন। তাঁর একনায়কতন্ত্র জার্মানিকে সামরিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেয়। তবে ক্রমাগত বেড়ে চলা ইহুদি বিদ্বেষ দেশের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়।

একনায়ক হিটলার:  

হিটলারের ইহুদি বিদ্বেষ ইতিহাসের একটি চর্চিত অধ্যায়। তাঁর মতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির হেরে যাওয়ার কারণ ইহুদিরাই। তিনি মনে করতেন একমাত্র জার্মানরাই আসল আর্য জাতি। তাঁর ইহুদি নিধন যজ্ঞকে ইতিহাস “হলোকাস্ট” নাম দিয়েছে। সারাদেশের ইহুদিদেরকে গ্যাসচেম্বারে আটকে তাঁদের হত্যা করা হয়। একদিনে প্রায় ৬০০০০ ইহুদিকে হত্যা করা হয়। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ইহুদি ছিলেন, তাঁকেও দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। হিটলার বিশ্বাস করতেন , “ একটি মিথ্যাকে যদি বিপুলভাবে প্রচার করা হয় তাহলে সেটা একদিন সত্য বলে গণ্য হয়”। তাঁর বিদেশ নীতি নিয়ে অনেক রকম প্রশ্ন ওঠে। তাঁর এই রকম অনধিকার প্রবেশের ফলে সারা বিশ্বে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়তে থাকে। জার্মানির নাগরিকরা অবশ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী হতাশা কাটিয়ে উঠছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হিটলার:

 হিটলার এমন একটি বিদেশ নীতির কথা বলেন যাতে সমস্ত জীবন্ত অঞ্চল দখল করে নেওয়ার কথা বলা হয়। এই সিদ্ধান্তে বৃটেন, ফ্রান্স ক্ষুব্ধ হয়। ১৯৩৯ সালে জার্মানি পোল্যান্ড দখল করলে যুদ্ধের ঘণ্টা বেজে যায়। এই যুদ্ধে জাপান ও ইতালী, জার্মানির পক্ষ নেয়। সেই সময় জাপান এবং ইতালিতেও চলছিল একনায়ক শাসকের রাজত্ব। যুদ্ধে জার্মানি , সোভিয়েত রাশিয়ার হাতে পরাজিত হয়। জাপানের ওপর নেমে আসে পারমানবিক বোমা। এই শতাব্দী প্রথমবার ধ্বংসলীলা দেখলো বুঝলো  আনবিক যুদ্ধের বীভৎসতা।

মৃত্যু:

জার্মানির পরাজয়ে দেশ জুড়ে নেমে আসে ভীষণ ক্ষোভ। এই শেষ দিনগুলিতে হিটলার বার্লিনেই ছিলেন। রেড আর্মি জার্মানি দখল করে। তিনি তাঁর অনেক দিনের বান্ধবী ইভা ব্রাউনকে বিবাহ করেন। তাঁদের বৈবাহিক জীবন স্থায়ী হয়েছিল ২৪ ঘণ্টা।  ৩০ শে এপ্রিল ১৯৪৫ সস্ত্রীক নিজের বাংকারে আত্মহত্যা করেন এই শতাব্দীর অন্যতম একনায়ক অ্যাডলফ হিটলার।

 

উপসংহার:

এই শতাব্দী হিটলারকে মনে রাখবে তাঁর বীভৎসতার জন্য। তবু সব জীবনই আমাদের কিছু শেখায়। হিটলারের হার না মানা মনোভাব আমাদের শেখার। কিন্তু তিনি এই পৃথিবীর বুকে আজীবন বেঁচে থাকবেন  তাঁর একনায়কতান্ত্রিক ইহুদি নিধনের জন্য। পৃথিবীতে কালো দিনগুলোর কথা যতবার হবে ততবার হিটলার আলোচনাতে আসবেন। হিটলারের আত্মজীবনী আজও বহুল বিক্রিত একটি বই।

 অ্যাডলফ হিটলার অনুচ্ছেদ 

অ্যাডলফ হিটলার  বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে একটি ফ্যাসিবাদী একনায়কের নাম। যখনই ফ্যাসিবাদ নিয়ে কথা হয় তখনই হিটলারের নাম এসে পড়ে।এই শাসকের জন্ম ১৮৮৯ সালে ২০শে এপ্রিল। পিতার নাম আলোইস, মাতার নাম শিকেগ্রুবার। তাঁর বাল্যকাল অতিবাহিত হয় লিনৎস নামের একটি অস্ট্রীয় শহরে।ছেলেবেলা থেকেই চিত্রশিল্পের প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। ১৯০৩ সালে পিতা এবং ১৯০৭ সালে মাতার জীবনাবসানের পর একলা দিন কাটতে থাকে তাঁর। সেইসময় পোস্টকার্ড এঁকে, ছবি এঁকে দিন কাটিয়েছেন। বহুদিন ভিয়েনা শহরের হস্টেলে তাঁকে দিন কাটাতে হয়েছে  চরম অর্থাভাবে। অস্ট্রিয়ার ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ তাঁকে ভর্তি নেয়নি। ১৯১৩ সালে মিউনিখে আসেন তিনি। ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়ান সেনা বাহিনীতে যোগ দিতে চাইলে তাঁকে শারীরীকভাবে অক্ষম বলে বাতিল করা হয়। তিনি যোগদেন স্বেচ্ছাসেবক রূপে জার্মান সেনাবাহিনীতে।সেখানে তিনি লাভ করেন প্রভূত সম্মান। ১৯১৯ সালে তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করে যোগদান করেন সক্রিয় রাজনীতিতে।নাতসি দলের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল অবধি তিনি ছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর। অভ্যুত্থানে ব্যর্থ হয়ে তিনি জেল খেটেছেন প্রচুরবার।তাঁর মোহনীয় বক্তৃতায় তিনি ইহুদি বিদ্বেষ, জাতীয়তাবাদী, সমাজতন্ত্র বিরোধী কথা ছড়াতেন।জার্মানির অর্থনীতি এবং সামরিক দিক থেকে করে তুলেছিলেন অজেয়।তার ইহুদিনিধন যজ্ঞ আজও ‘হলোকাস্ট’ নামে ইতিহাসের কালো পাতায় দগদগে রক্তাক্ত স্মৃতি।১৯৩৯ সালে পোল্যান্ড আক্রমণ করায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর ঘণ্টা বেজে যায়। শেষে ১৯৪৫ সাল অবধি সেই যুদ্ধ চলে।  জার্মানি পরিণত হয় ধ্বংস স্তুপে। ১৯৪৫ সালে ৩০শে এপ্রিল বাংকারে সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেন। বিশ্বমানবতার ইতিহাসে এক ভয়ের নাম হিটলার। তাঁকে নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। এমন রাজনীতিবিদ দুনিয়ার ইতিহাসে খুব কম এসেছেন , তাঁকে তাঁর বীভৎস শাসনশৈলীর জন্যে গোটা বিশ্ব আজীবন মনে রাখবে। তাঁর লেখা আত্মজীবনী ‘মেইন ক্যাম্প’ বইটি খুব বিখ্যাত।

লেখক – রাহুল পাঠক 


Comments are closed.