10 Best Motivational Speech in Bangla – সেরা ১০ টি মোটিভেশনাল কোটস

একটা লম্বা রাস্তা গাড়ি পারি দিয়েছে। তেল, ইঞ্জিন সব একেবারে সুন্দর এবং ঝাঁ চকচকে ।  কিন্তু মাঝপথে গোল বাঁধল, গাড়ি গরম ইঞ্জিন না চাইতেই থেমে গেল।এখন চালক মশাই এর হাতে দুটো রাস্তা খোলা, হয় বাড়ি ফিরে যাও,যেটা কিনা কিঞ্চিৎ সহজ উপায়।আর একটা পথ খোলা উঠে দাঁড়াও, গাড়ি সারিয়ে পাল্লা দাও রাস্তাতে। কিন্তু ভেঙ্গে পড়া মনকে জোড়া দেয়া কি অত সহজ? তার জন্যে  কাঁধের ওপর একটা হাত থাকা জরুরি , আর সে মানুষ খুব ভাগ্যবান যার কাঁধে হাত রাখার মতো মানুষ আছে। কিন্তু এজগতে একলা যারা চলেন তাদের কাঁধে হাত না থাকলেও কিছু মানুষ যারা তাদের জীবন দিয়ে বুঝেছেন, জীবন মানে এক লড়াই আর জীবনের চোখে চোখ রেখে বলা, “বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী”।তাদের কথা যা আমাদের “বারে বারে বলে যায় রুক জানা নেহি তু কাভি হারকে”। তাদের কথার বাহারি নাম মোটিভেশনাল স্পিচ। জীবন নামের জার্নিটা খুব সহজ নয়, আর বাস্তব বরাবরই কঠিন। পাহাড়িয়া মানুষেরা চলতে চলতে  রাস্তায় হাঁপিয়ে গিয়ে তাদের ক্লান্ত কাঁধকে আরাম দেন। আর জীবন পাহাড়ে ক্লান্তি এলে কাঁধের  আরাম এই মোটিভেশনাল টোটকা।জীবন লড়াইতে প্রাচীন সৈন্যরা এই টোটকার হাত বাড়িয়ে দেন তাদের আগামীকে। আজ যে ছেলে বেকার চাকরী পায়নি, যে ভদ্রলোক জীবনে  সমস্তটা হারিয়েছেন, বা যে মানুষ আজ ট্রেনে ঝুলেছেন, ক্লান্ত হয়েছেন তার জন্যেও এসব কথা। আর আপনি যদি এমনি মন খারাপের স্টেশন দাঁড়িয়ে ভাবেন ”কিছু তো হল না এ জীবনে ” তাহলে বলি বাড়ি ফিরে যান, ঘরে বসে  ভাবুন ছেলেবেলাতে ফিরে যান, সেই কাকটাকে মনে করুন যে কলসির তলা থেকে জলটা তুলে এনেছিল, সেই কচ্ছপটাকে মনে করুন যে পিছিয়ে থেকেও রেসটা ছেড়ে চলে যায়নি। আর মশাই ওরা পারলে আপনি পারবেন না? আর সেই রাজাকে মনে আছে যে একটা মাকড়সাকে দেখে শিখেছিল, ওরা পারলে আপনি পারবেন না? পারবেন মশাই পারবেন ।আর মানুষ চাইলে কি না পারে বলুন তো, চোখ মুছুন উঠে দাঁড়ান ।

10 Best Motivational Speech in Bangla – সেরা ১০ টি মোটিভেশনাল স্পিচ

আপনাদের জন্য রইল জীবন থেকে শেখা সেই মানুষ গুলোর সেইসব কথা আপনাকে কাঁধ শক্ত করে লড়াই করাবে। আপনাকে বলিয়ে দেবে , আমি হারবো না,  আমি হারবো না, আমাকে হারানো যাবে না। এই নিন সেরম কিছু bangla motivational speech
 

1. স্বামী বিবেকানন্দ

“একদিনে বা একবছরে সফলতার  আশা করোনা।
সবসময় শ্রেষ্ঠ আদর্শকে ধরে রাখো”।
 – স্বামী বিবেকানন্দ
বাঙালি জীবনে স্বামীজির অবদান নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ ভারতবাসীর চেতনার জাগরণের অন্যতম কান্ডারি ইনি। একটা বাড়ি গড়তে প্রচুর সময় লাগে তেমনি সফলতাও তাই, একদিনে আসেনা। সময়
দিতে হয় অনেকটা।

2 . রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

” ভুল করার সকল দরজা যদি বন্ধ করে দাও
     তাহলে ঠিক করার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়”।
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 আলো আঁধার এর খেলার নাম জীবন। আমরা মানুষ, আর কথায় বলে না “মানুষ মাত্রেই ভুল হয়”। ভুল করা মানে হেরে যাওয়া নয়। বরঞ্চ আরেক পথের সন্ধান পাওয়া। তাই ভুল না করলে শেখা যায় না। শেখার জেহাদ জারি থাকলে ভুল হবেই, আর রাস্তা মিলবে ঠিক ঠিকানার।

3.  সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

 “ফাইট, কোনি ফাইট”।
– সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
কোনি এক হার না মানা মেয়ের নাম, মতি নন্দির লেখা “কোনি” উপন্যাস  পরবর্তীকালে ছবি তৈরি হয়। আর ক্ষিতদা [ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়] তিনি  আমাদের শেখায় এ জীবনে লড়াই একমাত্র পথ। কোনিরা যুগে যুগে সে লড়াই করে আর প্রমাণ করে, হেরে যাওয়া মানে ফুরিয়ে যাওয়া নয়।

4.  কবীর সুমন

  “হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে”
       – কবীর সুমন

পথ পেরোলে ক্লান্তি আসে, কাঁধের কাছটা ব্যাথাও হয়। কিন্তু চুপ করে সব ব্যাথা সইতে নেই। অন্যায়ের ভিড় থেকেও ন্যায় কে ছিনিয়ে আনতে নেই। হাল ছাড়তে নেই। কন্ঠের আওয়াজ তুলে রুখে দিতে হয় অবিচার। হকের দাবি বুঝে নিতে হয়।

5. স্বামী বিবেকানন্দ

“ওঠো,জাগো, যতদিন না  লক্ষ্যে পৌঁছাচ্ছ থেমো না”
  – স্বামী বিবেকানন্দ
  মানুষ লক্ষ্যপূরণের জন্য লড়াই করে, লক্ষ্যহীন মানুষ ভ্রান্ত এবং ভারাক্রান্ত। তাই সবার আগে লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রা চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই জায়গায় পৌঁছাচ্ছ। থেমো না।

6. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জীবনের সব মুহুর্তে  তোমার পাশে সবাই থাকবে এমনটা  সম্ভব নয়। সবাই তোমার সবটা মেনে নেবে তাও হবে না। ভরসা রাখতে হবে নিজের মনের উপর। সেই ডানায় ভর করে এগোতে হবে একলাই। সত্যের পথে চিরকালই ক্লান্তিকর, সে পথে এগিয়ে যেতে হবে।   

7. স্বামী বিবেকানন্দ

“জগতে যদি কিছু পাপ থাকে,
    তাহলে দূর্বলতাই সেই পাপ
   সর্বপ্রকার দুর্বলতা ত্যাগ কর-

    দুর্বলতাই পাপ দুর্বলতাই মৃত্যু”।
        – স্বামী বিবেকানন্দ
মানুষের ভয় মানুষের চিন্তা কে ডানা মেলতে দেয় না। মানুষকে করে দুর্বল। মানুষ ভোগে নিরাপত্তাহীনতায়। সেই পাপই মানুষকে শেষ করে তাই ভয় কে জয় করতে হবে।তাহলেই পথ হবে নিষ্কণ্টক।

8.  বিদ্যাসাগর

আমি দেশাচারের নিতান্ত দাস নহি;
  নিজের বা সমাজের মঙ্গলের নিমিত্ত
  যাহা উচিতবোধ হইবে তাহা করিব; লোকের বা কুটুম্বদের ভয়ে
   কদাচ সংকুচিত হইব না”।
 –  বিদ্যাসাগর
মন মানুষের এক অপরিহার্য এক অংশ। মানুষের মন মানুষকে সবচেয়ে ভালো চেনে। মানুষের যে কোনও কাজ তার মনকে জিজ্ঞেস ক্রেই করা উচিত তাতেই সমাজের কল্যান ।তবে হ্যাঁ এই কাজ মানুষকে আঘাত না দেয় সে কথাও মাথাতে রাখতে হবে।

9.   স্বামী বিবেকানন্দ

, “সাহসী হও, বীর্যবান হও। সব দায়িত্ব নিজের ওপর গ্রহণ কর”
     – স্বামী বিবেকানন্দ
    পালিয়ে গিয়ে বাঁচা যায়না। সবকিছুকে সমান ভাবে গ্রহণ করতে হয়। সে সমালোচনা হোক বা বাহবা।
ভয় পেলে চলবে না। নিজের কাজের দায়িত্ব নিতে হবে নিজেকেই। হার জিত স্বীকার করতে হবে সমান ভাবে।


10. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

“কেবলমাত্র সামনে দাঁড়িয়ে ,অথবা জলের দিকে তাকিয়ে থাকলে
     সমুদ্র পেরোনো সম্ভব নয়”।
  -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জলে না নামলে কি গভীরতা মাপা যায়? জলে  নামতে হবে গা ভেজবার ভয়কে
দূরে পাঠিয়ে। পথে না নামলে কোনওদিন পথ চেনা যায় না। রিস্ক নিতে হবেই নইলে জেতা যাবে না।


মন থাকলে খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক।তাতে ভেঙ্গে পড়ার কিছু নেই। বরং জীবনের চোখে চোখ রেখে বলুন আমি হারিনি। আর যারা আপনাকে ভরসা করে না তাদের সামনে  সৌরভ গাঙ্গুলিয় কায়দায় বলুন” এভাবেও ফিরে আসা যায়”। নিজের ওপর আস্থা রাখুন। আপনিই সব পারেন। আপনি নিজের রাজা। আর একটা ডাক করা মানে কিন্তু আউট হয়ে যাওয়া নয় তবু যদি মনকেমন করে আপনার জন্যেই তো আছে এই কোট গুলো চোখ বুলিয়ে লেগে পড়ুন লড়াইতে । আপনি জিতবেনই।

লেখক – রাহুল পাঠক 


Comments are closed.