মেছতা ও তার প্রতিকার – How To Remove Freckles in Bengali

0

আমাদের ইন্দ্রিয়ের সংখ্যা পাঁচ । ত্বক তার মধ্যে একটি অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। গরম ,ঠান্ডা, ঝড় জল, মশার কামড় সব স্পর্শজনিত অনুভূতির আভাস আমাদের ত্বকই জানান দেয় । আমরা অন্যান্য অঙ্গের থেকে ত্বকের যত্নটা একটু বেশিই নিয়ে থাকি। কারণ কথাতেই আছে “ প্রথমে দর্শনধারী তারপর গুণবিচারী।” মুখের ওপর দাগ পড়লে কারোরই ভালো লাগে না। আর বয়ঃসন্ধিকালে আমরা ত্বক চুলের যত্ন বেশী করে নিয়ে থাকি। এই সময় যদি মুখে দেখা দেয় মেছতার দাগ তবে তো আর কথাই  নেই। রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়। মেছতা নিয়ে অনেক প্রচলিত ধারণা আমাদের কানে আসে। তাহলে আসুন জেনে নিই মেছতা আসলে ঠিক কি ?

মেছতা ও তার প্রতিকার – How To Remove Freckle

মেছতা একটি বংশগত সমস্যা। ত্বকের নিচে মেলানিন জমলে তা মেছতার জন্ম দিতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় বিক্ষিপ্ত তিলের মতো দেখালেও এটি তিল নয়। অনেকেই একে তিল ভেবে ভুল করেন। গাল, নাক , পেট ,কাঁধ, হাত এরকম যেকোনো খোলা স্থানে এটি দেখা যায়। পৃথক পৃথক ব্যাক্তির ক্ষেত্রে এর রং একেক রকমের হয় ।কারো কারো ক্ষেত্রে লালচে, কখনো বাদামী, কখনো আবার কালো এবং হলুদ রঙের মেছতাও দেখা যায়। গ্রীষ্মে দাগগুলি গাঢ় ভাবে দেখা দেয়, আবার শীতে দাগগুলি হালকা হয়ে যায়।
মেছতা প্রধানত দুইপ্রকারের হতে পারে।
1.  সাধারণ মেছতা
2. রোদেপোড়া মেছতা
সাধারণ মেছতা – সাধারণ মেছতা মূলত ফর্সা ত্বকে বেশি দেখা যায়। এইধরনের মেছতা তামাটে কিংবা লালচে রঙের হয় । যাদের চুল লালচে চোখের রং হালকা তাদের এইপ্রকার মেছতা বেশি দেখা যায়। নিয়মিত সানস্ক্রিন মাখলে এই রোগ ছড়ানোর আগেই প্রতিকার সম্ভব।
রোদেপোড়া মেছতা – রোদেপোড়া মেছতা আবার এই ধরনের মেছতার থেকে একেবারে আলাদা। এটি  অপেক্ষাকৃত গাঢ়, এবং শীতকালেও এর রং হালকা হয় না।
মেছতা বয়ঃসন্ধি কালে  বেশি দেখা যায়। দুই বছরের বেশি কোনো কোনো বাচ্চাদের মুখেও মেছতার প্রকোপ লক্ষণীয় । আসলে  ত্বকের বয়স বৃদ্ধির একটি লক্ষণ হল মেছতা।

মেছতা প্রতিরোধের উপায় :

 

বংশগত সমস্যা হলেও ঠিকসময়ে  যত্ন নিলে মেছতার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু একবারদাগ পড়ে গেলে সেই দাগ থেকেই যায় সেই দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া বড়ই কঠিন । সেই দাগ কমানোর উপায় দীর্ঘকালীন। তবে মেছতায় আক্রান্ত মানুষ ছাড়াও আমাদের সবারই এই কয়েকটি প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিলে আমাদের ত্বক থাকবে সজীব এবং উজ্জ্বল। আসলে রোদ থেকে ত্বককে বাঁচাতে পারলেই মেছতা অনেকাংশে কম হতে পারে।

প্রতিরোধক ব্যবস্থা
1.  যথেষ্ট পরিমাণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে এখেত্রে এস পি এফের মাত্রা যেন ৩০ হয়।
2.  বাইরে বেরোবার সময় নিজের সাথে ছাতা , টুপি, স্কার্ফ ব্যবহার করুন। মোট কথা গ্রীষ্মের চড়া রোদ থেকে আপনার   ত্বককে রক্ষা করুন।
3. ঘাড়, পিঠ ঢাকা ফুলহাতা জামা পড়ুন।
4. সকাল দশটা থেকে বিকাল চারটে পর্যন্ত  গ্রীষ্মের চড়া রোদকে এড়িয়ে চলুন।

5. শিশুরা খেলবে , ছুটোছুটি করবে তাদের পক্ষে রোদকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব । তাই তাদের মধ্যে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের প্রবণতা ছোটো থেকেই গড়ে তুলুন ।

মেছতা থেকে মুক্তি পাওয়ার দাওয়াই :

মেছতার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী। তাই এই চিকিৎসার জন্য সবার আগে যেটা দরকার তা হল ধৈর্য। শৃঙ্খলিত জীবন খুবই দরকারি এক্ষেত্রে ।


1. ব্লিচিং বা ফেডিং ক্রিম: বাজারে নানা ব্র্যান্ডের নানান ব্লিচিং বা ফেডিং ক্রিম পাওয়া যায়। মূলত ত্বক ফর্সা করতে এই ক্রিমের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। নিয়মিত এই ক্রিম ব্যবহারে মেছতার দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে থাকে। তবে এই ক্রিম ব্যবহারের পর রোদে যাওয়া যাবে না । তাতে ত্বক পুড়ে যাওয়ার স্মভাবনা থাকে।

2. ক্রায়োসার্জারি: তরল নাইট্রোজেন দিয়ে ছোটোখাটো সার্জারিকে বলা হয় ক্রায়োসার্জারি। তবে এতে মেছতার দাগ পুরোপুরি দূর হয় না।

3. লেজার ট্রিটমেন্ট: লেজার ট্রিটমেন্টও ক্রায়োসার্জারির  মতোই সহজ এবং নিরাপদ।এতে মেছতার দাগ যায় সম্পূর্ণ ভাবে। আবার এই ঝঞ্জাটহীন প্রক্রিয়ার দ্বারা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে না।এটি একটি সহজ উপায়। আমাদের দেশে এখন এই প্রক্রিয়া খুবই সহজলভ্য এবং সকলের সাধ্যের মধ্যে।

4. ফটোফেসিয়াল: ফটোফেসিয়ালও লেজার ট্রিটমেন্টের মতোই নিরাপদ। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো এই পদ্ধতির প্রচলন হয়নি।

5. ফেসিয়াল: বিভিন্ন পার্লারে স্পাতে ফেসিয়ালের ব্যবস্থা থাকে। সেখানে নিয়মিত ফেসিয়াল করলে মেছতার দাগ হালকা হয়।

সুস্থ জীবন কাটান , নিয়মিত ও পরিমিত খাবার খান। ত্বকের যত্ন নিন। মেছতাকে চিনে নিন, তার প্রতিকারে ,প্রতিরোধে নিয়ে নিন জরুরী কিছু ব্যবস্থা ।আর মেছতার দাগ নিয়ে চিন্তিত হবেন না । আপনার জন্য তো রইলই মেছতা দূর করার এই কয়েকটি বিশেষ দাওয়াই।


Leave A Reply

Your email address will not be published.