মুর্শিদাবাদের সেরা 10টি দর্শনীয় স্থান (Murshidabad Tourist Spot)

শহুরে কংক্রিটের জঙ্গল, ধুলো আর কাজ এর মাঝে হাঁপিয়ে ওঠে প্রাণ, মাঝে মধ্যে দরকার পড়ে হাওয়া বদলের। তবে ক্লান্ত মনের জন্য দরকার শান্ত জায়গা, যেখানে গেলে মুছে যাবে মনের সমস্ত গ্লানি। আধুনিকতার মায়া-পাশ যদি আপনার দম বন্ধ করে দেয়, আর আপনার মনকে ভরিয়ে তোলে উৎকণ্ঠায়, তবে আপনার জন্য আদর্শ জায়গা হবে মুর্শিদাবাদ। একটি বিস্তৃত শহর, যার আনাচে কানাচে রয়েছে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের চিহ্ন। ভাগীরথী নদীর তীরে তূর্কী আমলে সুবা বাংলার রাজধানী মকসুদাবাদ বর্তমানে মুর্শিদাবাদ ২-৩ দিনের ছুটিতে যাওয়ার জন্য ভালো পছন্দ। 

মুর্শিদাবাদের সেরা 10টি দর্শনীয় স্থান (Murshidabad Tourist Spot)

শীতকালীন সময়ে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এখানে সবথেকে মনোরম আবহাওয়া থাকে। মুর্শিদাবাদ শহরের চারিদিকে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান (murshidabad tourist spot), যা মুর্শিদাবাদকে দেয় এক আলাদা মাত্রা। এই রকমই কিছু জায়গা যেখানে গেলে আপনি মুর্শিদাবাদকে দেখতে পাবেন  কাছ থেকে আর জানতে পারবেন বাংলার ইতিহাস (murshidabad history),  সেরমই কিছু জায়গার তালিকা আমরা নিচে আপনার সুবিদার্থে সাজিয়ে দিচ্ছি।

1. হাজার দুয়ারি

মুর্শিদাবাদের সবথেকে বিখ্যাত দ্রষ্টব্য স্থান হল হাজার দুয়ারি, যেখানে নামের সাথে মিল রেখে আক্ষরিক অর্থেই আছে হাজারটি দরজা। নিজামত কেল্লার মধ্যে আবস্থিত এই প্রাসাদে সত্যিই ১০০০ টি দরজা আছে। যার মধ্যে ৯০০ টি আসল, ও বাকি ১০০ টি নকল; স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যায় এই ব্যাবস্থা আক্রমণকারীদের প্যাঁচে ফেলবার জন্যেই করা হয়েছিল। মুর্শিদাবাদের পর্যটন ক্ষেত্র গুলির মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত এই হাজারদুয়ারি প্রাসাদ, এর গ্রীক ফ্যাশনের স্থাপত্য ও নিপুন কারিগরিতে বানানো এই এক সহস্র কাঠের দরজা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খুব সহজেই। এছাড়া এখানে এখন আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডীয়ার সবথেকে বড় মিউজিয়ামটি  এই হাজার দুয়ারি প্রাসাদের মধ্যে আছে। এই মিউজিয়ামে ২০ টি গ্যালারী, তাতে ৪৭৪২ টি দুস্প্রাপ্য শিল্প বস্তু, প্রচুর অয়েল পেন্টিং, শ্বেত পাথরের মূর্তি, রাজবাড়ির আসবাব, ধাতুর তৈরি নানা মুল্যবান দ্রব্য ও মূর্তি ইত্যাদি দেখা যায়। এর বেশির ভাগ ই সাধারণ মানুষের দেখার ব্যাবস্থা করা আছে। টাইম মেশিন না থাকলেও টাইম মেশিনের মতো অনুভূতি দিতে পারবে এই প্রাসাদ।

  • সময়– সকাল  ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা।
  • প্রবেশ মূল্য– ৫ টাকা।

2. নিজামত ইমামবারা

হাজারদুয়ারি প্রাসাদের উত্তরপ্রান্তে প্রায় ৬৮০ ফিট বিস্তৃত এই ইমামবারা হল পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের সব থেকে বড় ইমামবারা। সিরাজ-উদ-দৌল্লার তৈরি পুরনো  নিজামত ইমামবারা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর নবাব নজিম-মনসুর-আলি-খান-ফেরাদুন-জাহ এই ইমামবারা টি তৈরি করেন। ১১মাস ধরে তৈরি হওয়া এই ইমামবাড়াটির জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ লক্ষ্য টাকা। দুটি তলায় বিস্তৃত স্বেত পাথরের মোড়া ও বিশাল আকৃতির থাম বিশিষ্ট এই ইমামবারার সৌন্দর্য  এক আভাবনিয় দৃশ্য।

এই ইমামবারা তিনটি  ভাগে বিভক্ত-

  • মধ্যভাগ- এখানে মদিনা মসজিদ ও মেম্বার দালান অবস্থিত
  • পূর্ব ভাগ- এখানে নহবত খানা অবস্থিত
  • পশ্চিম ভাগ- এখানে দুটি তলা জুড়ে মসজিদ বা প্রার্থনা ঘর অবস্থিত।


Comments are closed.